যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানে দফায় দফায় তীব্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও। এরই মধ্যে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইরানে গত শনিবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার ছিল যুদ্ধের তৃতীয় দিন। এদিন পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েল ছাড়াও লেবানন, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, ওমান, ইরাক ও সাইপ্রাসে হামলা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের দেশগুলোতেও, অর্থাৎ প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। গতকাল পর্যন্ত ইরানের অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রেড ক্রিসেন্ট। এদিন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাসভবন ও কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে গতকাল পর্যন্ত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রাণ হারিয়েছেন চার মার্কিন সেনা।
গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়েছিল ইরান ও ইসরায়েল। তাতে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও। এবার ইসরায়েল আরও তীব্রতার সঙ্গে হামলা চালাচ্ছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র। এ যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে বলে গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ–ও বলেছেন যে দরকার পড়লে অভিযান আরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইরানে বিপুল মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। এখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির তাবরিজ শহরের বাসিন্দা মোর্তেজা সেগিদি রয়টার্সকে বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল) শিশুদের হত্যা করছে। হাসপাতালে হামলা চালাচ্ছে। এমন গণতন্ত্রই কি ট্রাম্প আমাদের দিতে চান?’






