সিরাজগঞ্জে হতাহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার, রোববারের সহিংসতায় নিহত ২৪
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলার ঘটনায় যে ১৩ জন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল আজ তাদের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এই ঘটনায় নিহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে।
রোববারের সহিংসতায় সিরাজগঞ্জ জেলায় এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
তাদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যরাও যোগ দেন। পরে তারা একে একে পুলিশের মরদেহগুলো বের করে আনেন। এর মধ্যে, কিছু মরদেহ স্তুপ করে রাখা ছিল। কিছু আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। তিনটি মরদেহ পাওয়া গেছে পুকুরে এবং একজনকে পাশের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।
সেনাসদস্যরা লাশগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নান মিয়া বলেন, “দুপুরে আন্দোলনকারীরা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে ওসি তাদেরকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে দেন। পরে তারা বিরাট সংখ্যায় এসে থানা ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।”
এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ছাদে উঠে এবং বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা থানার ভেতরে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের বেধড়ক পিটিয়ে মারে।”
থানার ভেতর থেকে ১৩ পুলিশের লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি আরো ১৪ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করার কথা জানায় পুলিশ।
এদিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে এক সাংবাদিকসহ ছয় জন নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছে।
আন্দোলনকারীরা সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরির বাসা থেকে দুজনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
জানা গিয়েছে, রোববার দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীরা তার বাসায় হামলা করে। এ সময় ভেতরে থাকা নেতাকর্মীরা দ্রুত বেরিয়ে যান।
এর কিছুক্ষণ পর আন্দোলনকারীরা বাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়। রাতে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর পর ভেতর থেকে দুজনের সম্পূর্ণ পোড়া দেহ বা কঙ্কাল উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে বাইরে হামলা ও অগ্নি সংযোগের সময় তারা ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জ সদরে সহিংসতায় একজন যুবদল ও একজন ছাত্রদল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম।






