ইরানের সামরিক বাহিনী অসম যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, দাবি সেনাপ্রধানের
ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দুই দফা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করেছে ইরান। বিশেষ করে ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেকোনও পরিস্থিতিতে অসম যুদ্ধের (অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার) জন্য দেশটির সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী ড্রোন উৎপাদনকারী সেনাবাহিনীর একটি স্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন হাতামি।
ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, দেশটির সেনাবাহিনী ড্রোন উৎপাদন, সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে যুদ্ধের সময় এসব প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
আধুনিক যুদ্ধে চালকবিহীন অস্ত্রের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে হাতামি বলেন, ড্রোন, চালকবিহীন নৌযান এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অসম যুদ্ধের প্রস্তুতিতে গুরুত্ব
সামরিক পরিভাষায় অসম যুদ্ধ বলতে এমন সংঘাতকে বোঝায়, যেখানে প্রতিপক্ষের সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি, অস্ত্র ও সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে। এ ধরনের যুদ্ধে তুলনামূলক দুর্বল পক্ষ সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধের পরিবর্তে ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র, দ্রুত আঘাত হেনে সরে পড়া, সমুদ্রপথে আক্রমণ এবং অন্যান্য বিকল্প কৌশলের ওপর নির্ভর করতে পারে।
ইরানের সামরিক কৌশলে ড্রোনের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক ড্রোন তৈরি এবং সেগুলোকে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহার করার সক্ষমতা দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক দুই দফা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলে হাতামি মূলত সামরিক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তবে ড্রোন উৎপাদন কতটা বাড়ানো হয়েছে, নতুন কী ধরনের সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে কিংবা যুদ্ধের সময় এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
ইরানের সেনাবাহিনী দেশটির বৃহত্তর সশস্ত্র বাহিনীর অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শাখা। দেশটির সামরিক কাঠামোয় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরও (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সেনাপ্রধানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। ড্রোনসহ চালকবিহীন অস্ত্রের উৎপাদন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ জোরদারের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংঘাতে নিজেদের প্রস্তুতি বাড়াতে চায় দেশটি।
তবে ইরানের সেনাপ্রধানের এ বক্তব্য দেশটির সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে একটি আনুষ্ঠানিক দাবি। স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া এর ভিত্তিতে ইরানের প্রকৃত যুদ্ধক্ষমতা বা সম্ভাব্য সংঘাতে তাদের সাফল্যের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না। সূত্র: আল-জাজিরা






