ads

নতুন বাংলাদেশ গড়তে সঠিক তথ্য জানা জরুরি। মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা বলেছেন।

রবিবার (২৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর অডিটোরিয়ামে পিআইবি এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশ আয়োজিত ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তির যুগে গণমাধ্যম-চ্যালেঞ্জ, দায়িত্ব এবং উন্নয়নের পথ" শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।‌
পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে  বক্তব্য দেন ইউল্যাবের স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ড. এম সুমন রহমান,  যমুনা টিভি র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আজাজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর,  গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। স্বাগত বক্তব্য দেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশীষ দামলে। এছাড়াও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ফিরদৌস আজীম,   সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক ও চ্যানেল আইর সিনিয়র বার্তা সম্পাদক মীর আত্তাকী মাসরুরুজ্জামান প্রমুখ। 
সংলাপটি সঞ্চালনা করেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা শরিফুল হাসান।


মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসুলেটেন্ট, আইসিটি ডিভিশন গভর্নরমেন্ট অফ বাংলাদেশ অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ। 

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব সঠিক তথ্য তুলে ধরা। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে সমাজে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু সংবাদ শুধু ভিউ বাড়ানোর জন্য প্রকাশিত হয়। এতে প্রকৃত সত্য আড়ালে থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের মালিকানা কাদের হাতে রয়েছে, সেটি বুঝতে হবে। গত ২০-২৫ বছরে গণমাধ্যমের কাঠামো অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সঠিক সংবাদ প্রচার নিশ্চিত করতে হলে এ বিষয়গুলো নিয়েও ভাবতে হবে।
অশীষ দামলে বলেন,  দেশ যখন উন্নত হয়, সেই দেশের প্রতিটি মানুষ উন্নত রেখা উপভোগ করেন। ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া ফোরাম অপতথ্য,  মিথ্যা তথ্য নিয়ে কাজ করবে। বাংলাদেশের নিজস্ব নেরেটিভকে আমাদের খুব শক্ত করে সামনে নিয়ে আসতে হবে। এদেশের কি কি জিনিস আমরা উপস্থাপন করবো সেটাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
 কামাল আহমেদ বলেন, ব্যাপকভাবে মিস ইনফরমেশন ও ডিস ইনফরমেশন মিডিয়াতে শুরু হয়েছে। এখন মিডিয়াগুলোতে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতার কারণে এটি আরো দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরে নিউজ সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তর কাছে ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে না। আপনি কি রিপাবলিক বাংলাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলবেন। তাদের কিন্তু ভারতে দর্শক নেই। তাদের দর্শক বেশি বাংলাদেশে। অনেক মিডিয়াই নিয়মিত ও সংগঠিতভাবে প্রচার করছে। আমাদের ধারণা ছিল আওয়ামী লীগের বন্ধু কংগ্রেস। এখন দেখলাম বিজেপিও। ফলে মিস ইনফরমেশন ও ডিস ইনফর্মেশন রাজনৈতিকভাবেই উদ্যোগ নিতে হবে। প্রত্যেকটি হাউসে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ডেক্স থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন,  এই কাজগুলো কিভাবে সংগঠিত করা যায় সেটিও আমরা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে করেছি। রাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রধান উপদেষ্টা অঙ্গীকার করেছেন এখনই কার্যকর করা সম্ভব, সেই সুপারিশ গুলো সরকার অচিরেই কার্যকর করবে। আমার কাছে একটি তালিকা চেয়েছেন যেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা দরকার। আমি দুদিনের মধ্যে তালিকা দিবো। আশা করি দ্রুত এটি কার্যকর হবে।
 ফারুক ওয়াসিফ বলেন, পূর্ব সরকারের অপতথ্য,  মিথ্যা তথ্য পরিবেশনের কারণে আমরা একটা দুর্গতির মধ্যে পড়েছি। পোশাক শিল্পে আমরা যে ছাড় পাই, মধ্যম আয়ের দেশে গেলে আমরা তা পাবো না। বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের সমস্যা হবে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা সংবাদ পরিবেশনের নৈতিকতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও খবর