ads

উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক ব্যক্তির ওপর নৃশংস ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর বেলফাস্টের কিনেয়ার্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারী ওই ব্যক্তির মাথা ও ঘাড়ে একাধিকবার আঘাত করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যদের হস্তক্ষেপে হামলা থামে।

গুরুতর আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর চোখ, মুখ ও পিঠে গুরুতর জখমের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি রান্নাঘরের ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, ধারালো অস্ত্র বহন এবং প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশের (পিএসএনআই) দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি সুদানের নাগরিক এবং ২০২৩ সালে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। তদন্তে সন্ত্রাসবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

তবে ছুরিকাঘাতের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ডানপন্থী কর্মীদের আহ্বানে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শত শত মানুষ বেলফাস্টের রাস্তায় বিক্ষোভে অংশ নেয়।

একপর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন দেয়, সড়ক অবরোধ করে এবং অভিবাসীদের বসবাসকারী এলাকা বলে ধারণা করে কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। পূর্ব ও উত্তর বেলফাস্টে একাধিক বাড়ি ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একটি বাসও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কিছু পরিবারকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে।

বেলফাস্টের বাইরে উত্তর আয়ারল্যান্ডের আরও কয়েকটি এলাকাতেও বিক্ষোভ ও অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার Michelle O'Neill দাঙ্গাবাজদের কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, নিরীহ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে পরবর্তী সহিংসতারও নিন্দা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় একজনকে অভিযুক্ত করা হলেও দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো কোনো নতুন গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন ভিডিও পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

আরও খবর