ads

 

 

লন্ডন : বিশ্বব্যাপী সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ব্রিটেনের ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্টের সামনে  বিশাল সমাবেশ থেকে বাংলাদেশে শান্তি এবং গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার  অঙ্গীকার‌ করেছেন হাজারো ব্রিটিশ বাংলাদেশি। সম্প্রতি বাংলাদেশে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত  সহিংসতা , অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ডাকে সোমবার দুপুরে‌ এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রখর রৌদ্রতাপ উপেক্ষা করে দুপুরের আগে থেকেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে সমাবেশ স্থলে মিছিল সহকারে আসতে থাকেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও সমাবেশে যোগ দেন বিপুল সংখ্যক সাধারণ প্রবাসী। এসময় জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয় সমাবেশস্থল।
অসংখ্য শান্তিপ্রিয় মানুষের এই সমাবেশ নজর কাড়ে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদেরও। একে একে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হোন
ব্রিটিশ  পার্লামেন্টের সদস্য ডেপুটি  স্পিকার করলাইন নকস, পাউলটি হ্যামিলটন এমপি, , স্টেইট মিনিস্টার  জিম ম্যাক মোহন এমপি , এমা  লয়েল বাক,  এমপি  ও আফজাল খান এমপি, রিচার্ড বার্গোয়েন এম পি, লি এন্ডারসন এমপি । তাঁরা সমাবেশের আয়োজকদের সাথে কথা বলেন।এসময় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে কোটা আন্দোলন ঘিরে চলমান সহিংসতা সম্পর্কে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের অভিহিত  করেন এবং তাঁদের হাতে একটি  স্মারকলিপি তুলে দেন । 
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি  বীর মুক্তিযোদ্ধা  সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে 
এবং  সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন 
বক্তব্য রাখেন,  সহ-সভাপতি আলহাজ জালাল উদ্দিন,  হরমুজ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক , নঈম উদ্দিন রিয়াজ, মারুফ আহমেদ চৌধুরী , সাংগঠনিক  সম্পাদক, আব্দুল আহাদ চৌধুরী , লন্ডন আওয়ামী লীগের সভাপতি, নুরুল হক লালা মিয়া, যুবলীগের সভাপতি, ফকরুল ইসলাম মধু, ছাত্রলীগের সভপতি, তামিম আহমদ, মহিলা লীগের‌ সাধারণ সম্পাদক, শাহীন আকতারসহ , যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আসা শাখা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে‌ বক্তারা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানানো হয়েছে, তাদের কাজে লাগিয়ে জামায়াত বিএনপি গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হীন চেষ্টা বাস্তবায়নে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।  এই কঠিন পরিস্থিতিতেও সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম ধারণ করে এবং জনগণকে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস-সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কোটা আন্দোলন চলাকালে মিছিলের অভ্যন্তরে হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে সমাবেশে বক্তারা বলেন, মিছিলের ভেতরে কিভাবে সাধারণ ছাত্ররা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে , সেসব সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে আসুক। 
সমাবেশ থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের অর্জিত গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা রক্ষা করতে প্রবাস থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার‌ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুলতান মাহমুদ শরীফ বলেন- বাংলাদেশের প্রতিটা দুঃসময়ে যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজকের সমাবেশ ও তাই প্রমাণ করে। মুক্তিযুদ্ধে আমরা যাদের পরাজিত করেছিলাম, সেই পরাজিত শক্তি বারবার স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বে আঘাত হানতে চেয়েছে। কিন্ত কখনো সফল হয়নি। হতে পারবে ও না। ছাত্র আন্দোলনের নামে , সাধারণ ছাত্রদের দাবীকে আড়াল করে  যখন সারা দেশে ভাংচুর, অগ্নি সংযোগে  মেতে উঠে জামায়াত বিএনপির প্রশিক্ষিত  খুনী বাহানী , আমাদের বুঝতে বাকী থাকেনা , কারা কলকাঠি নাড়ছে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ  পরাজিত শক্তির চক্রান্তে হারবে না। আমরা তা বিশ্বাস করি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের সেই বিষয় গুলো অবিহিত করতে আজ আমাদের সমাবেশ। 
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা, ৭৫ এর ১৫ আগস্টের কুশীলব , পাকিস্তানী প্রেতাত্মারা বারবার আঘাত হানতে চেয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করতে চেয়েছে। মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ যখন রোল মডেল , তাদের লক্ষবস্তু তখন সেই উন্নয়নযজ্ঞ কে বিনষ্ট করা যা এখন দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । এই বর্বরোচিত ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়ে ও এই জামায়াত বিএনপি চক্র বসে নেই নানা রকম গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিশীল করে তুলতে চাইছে। বিদেশে সেই সব গুজব প্রচার করে বাংলাদেশকে  ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে প্রমাণ করতে চেষ্টা করছে। 
আমরা এই সমাবেশের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে জানাতে চাই , বাংলাদেশে ছাত্রদেরকে মানবঢাল  হিসাবে ব্যবহার করে  কীভাবে ধ্বংস যজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে দেশদ্রোহী  চক্র।

আরও খবর