‘জুলাই কারও একার নয়, লিখিত ইতিহাস না থাকলে স্বাধীনতার দাবিও করত জামায়াত’—উর্মি
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নৌরিন উর্মি অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করে। তার ভাষায়, লিখিত ইতিহাস না থাকলে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবিও নিজেদের বলে প্রচার করত।
বুধবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
উর্মি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দ্বিচারী রাজনীতিকে কখনোই বিশ্বাস করে না। তার দাবি, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী সবসময় সুযোগসন্ধানী ভূমিকা পালন করে এবং ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। একই সঙ্গে তারা নারীর স্বাধীনতাকে সীমিত করার চেষ্টা করে এবং যেকোনো আন্দোলন বা বিপ্লবের কৃতিত্ব নিজেদের বলে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
তিনি বলেন, “লিখিত দলিল না থাকলে তারা বলত, দেশটাও তারা স্বাধীন করেছে।”
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে ছাত্রদলের এই নেত্রী বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়। “জুলাই এ দেশের আপামর জনগণের। জুলাইয়ের কোনো স্টেকহোল্ডার কিংবা কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই। স্বাধীনতার চেতনা যেমন সবার, জুলাইও সবার,” বলেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, স্বাধীনতার সময় যারা স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে ছিল, তারাই পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করেছে এবং বিভিন্ন আন্দোলনের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের উদাহরণ টেনে উর্মি বলেন, ওই সংসদ সদস্য দাবি করেছিলেন তার বাবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পরে জানা যায়, তার পিতার জন্মই মুক্তিযুদ্ধের ১০ বছর পরে। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি “গালভরা রাজনীতি” বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, এ ধরনের দ্বিচারী রাজনীতির নেতৃত্বে দেশের মানুষ কোনো অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামবে না।
জুলাই আন্দোলনের সময়কার তরুণ নেতৃত্ব নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন উর্মি। তিনি বলেন, সমন্বয়ক পরিচয়ে যাদের প্রতি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশা ছিল, তারা সেই আস্থার জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। তবে তারা ভবিষ্যতে জনমুখী রাজনীতিতে ফিরে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে উর্মি বলেন, তিনি চান না বাংলাদেশে শুধু একটি রাজনৈতিক দল থাকুক। তার মতে, দেশে শক্তিশালী বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই আমাদের সবার। এটি রিয়া গোপের, ওয়াসিমের, আবু সাঈদের, রিকশাচালকদের, এলিট শ্রেণির, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত—সব মানুষের জুলাই।”






