গাছ কেটেই বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত দুই শক্তিশালী দেশের!নেই কাঁটাতারের বেড়া বা সুরক্ষিত দেয়াল
সীমান্ত মানেই কাঁটাতার, প্রাচীর, সেনা পাহারা এই চেনা ছবিকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছে দুটি পরাশক্তিশালী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র তার সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে মাত্র দুটি দেশের সঙ্গে। একটি মেক্সিকো, অন্যটি কানাডা। কিন্তু এই দুটি সীমান্তের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। মেক্সিকো সীমান্তে যেমন রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া, সুরক্ষিত দেয়াল, এমনকি সেনা মোতায়েন পর্যন্ত; ঠিক উল্টো এক শান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ চিত্র দেখা যায় কানাডা সীমান্তে।
এখানে কাঁটাতারের বেড়া নেই, প্রাচীরও নেই। বরং, বিশাল বনাঞ্চলের মাঝখানে শুধু গাছ কেটে তৈরি করা হয়েছে ২০ ফিট প্রশস্ত একটি সরু লাইন। সেই রেখাই নির্ধারণ করে দিয়েছে দুই দেশের প্রায় ৮,৮৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত। এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত হিসেবে পরিচিত। আর এত দীর্ঘ সীমান্তে কোথাও নেই কঠিন নিরাপত্তাবেষ্টনী।
এই সীমান্তে গাছ কেটে তৈরি করা রেখাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Slash’। এ রেখা স্যাটেলাইট থেকেও পরিষ্কার দেখা যায়। এই রেখার মধ্যেই বসানো হয়েছে প্রায় আট হাজার সীমান্ত পিলার। ‘ইন্টারন্যাশনাল বাউন্ডারি কমিশন’ এই সীমান্তের দেখভাল করে। প্রতি পাঁচ থেকে ১৫ বছর অন্তর অন্তর নতুন করে জন্ম নেয়া গাছ কেটে এ রেখা পরিষ্কার করা হয়।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সীমানা রক্ষায় ব্যবহৃত ‘Slash’ রক্ষণাবেক্ষণের খরচ চালাতে দুই দেশের নাগরিকদের থেকে বছরে মাত্র ৫০ সেন্ট করে কর নেওয়া হয়।
আমেরিকা ও কানাডার মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধুত্বপূর্ণ। দুই দেশই অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হওয়ায় সীমান্তে আলাদা করে কঠোর নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়নি। তবে এর মানে এই নয় যে, সীমান্ত একেবারেই উন্মুক্ত। এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত, এবং এখানে রয়েছে একাধিক কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। যেখানে পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করা হয়।
ফলে অবৈধভাবে প্রবেশ খুব একটা সহজ নয়। যদিও প্রতি বছর অনেক মানুষ এই শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে আধুনিক ড্রোন, সেন্সর ও ক্যামেরা প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে ফেলা হয়।
বিশ্বের অন্যান্য সীমান্তের তুলনায় আমেরিকা-কানাডা সীমান্ত যেন এক সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদাহরণ। যেখানে বন্ধুত্ব, আস্থা ও প্রযুক্তি একত্রে তৈরি করেছে সীমান্ত সুরক্ষার এক নতুন ধারা।
কানাডা ও আমেরিকার সীমান্ত প্রমাণ করে দেয়, সব সীমান্তেই কাঁটাতার কিংবা দেয়াল বাধ্যতামূলক নয়। আস্থার ভিত্তিতে নির্মিত সীমান্তও হতে পারে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন দৃশ্য হয়তো আপনার কল্পনাতেও ছিল না গাছ কেটেই যে নির্ধারণ করা যায় বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত!






