সেই রিকশাচালকের জামিন,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ধানমণ্ডি ৩২-এ ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার রিকশাচালক আজিজুর রহমানকে জামিন দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম এম এ আজহারুল ইসলাম গতকাল শুনানি শেষে এক হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে রিকশাচালককে গণঅভ্যুত্থানের ঘটনার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। নিরীহ রিকশাচালক শ্রদ্ধা জানাতে এসে একদিকে হেনস্তার শিকার আর অন্যদিকে পুলিশ তাকে এপ্রিল মাসে রুজু হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে-এ খবর ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সরকারের নানা মহল থেকে সমালোচনা হয়। যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, রিকশাচালককে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। নিয়মিত পেনাল কোডের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে রিকশাচালককে কীসের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যশৈন্যু মারমার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
আজিজুরের জামিন শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী। তিনি বলেন, আসামি একজন রিকশাচালক। ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মারধরের শিকার হন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে পূর্বের একটা পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আজিজুর দিন আনে, দিন খায়। তার রিকশাটাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার জামিনের প্রার্থনা করছি। এদিন সকালে ১০ মাসের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে আদালতে আসেন আজিজুরের স্ত্রী চুমকি খাতুন। পরে চুমকি সাংবাদিকদের বলেন, আমার স্বামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। আবেগের বশে সেখানে গিয়েছিলেন। আদালত জামিন মঞ্জুর করেছে, তাই আমি খুশি।
হত্যা মামলায় আসামি করা হয়নি: ঢাকা মহানগর পুলিশের তরফে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে সেটিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ই আগস্ট ধানমণ্ডি-৩২ এলাকা থেকে মো. আজিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ধানমণ্ডি থানার এপ্রিল মাসে দায়ের করা একটি মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গত ১৬ই আগস্ট তাকে আদালতে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে মো. আজিজুর রহমানের গ্রেপ্তার ও মামলা নিয়ে অহেতুক ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে মো. আজিজুর রহমানকে যে মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে তা পেনাল কোডের একটি নিয়মিত মামলা। কিন্তু অনেকেই বিষয়টিকে হত্যা মামলা হিসেবে প্রচার করছেন, যা সমপূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক।
কী হয়েছিল সেদিন: ১৫ই আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মারধর ও হেনস্তার শিকার হন কয়েকজন। তাদের মধ্যে রিকশাচালক আজিজুর রহমান বেলা ১১টার দিকে রিকশা চালিয়ে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২ নম্বরে যান। তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে একজন লাফ দিয়ে তার হাত থেকে ফুলের তোড়াটি কেড়ে নেন। চলে মারধর, ভাঙচুর করা হয় তার রিকশাটিও। আজিজুর রহমান সেদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি যাত্রাবাড়ী থেকে এসেছেন। চারশ’ টাকা দিয়ে ফুলের তোড়াটি কিনেছেন। আমার অনেক কষ্টের টাকা, আমি দুই বছর ঢাকা শহরে রিকশা চালাই। শুধু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি এজন্য এহানে আইছি।’ পরে আজিজুর রহমানকে পুলিশ আটক করে এবং সরকার পতনের আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ঠা আগস্ট সাইন্সল্যাব এলাকার গুলিবিদ্ধ মো. আরিফুল ইসলামের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আজিজুরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ধানমণ্ডি থানার এসআই মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান।






