জামায়াত কীসের ভিত্তিতে বসতে চায়, প্রশ্ন খসরুর
গত দুই নভেম্বর জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বিএনপি-জামায়াতকে এক সঙ্গে বসে দেশের জন্য রাজনীতি করার আহবান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, জামায়াত কীসের ভিত্তিতে বসতে চায় সেটা আগে জানতে হবে। ১৪ মাস বসে আলোচনার মাধ্যমে সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন নতুন করে আর আলোচনার কী আছে বুঝি না।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে তারুণ্যের রাষ্ট্র চিন্তা শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আমীর খসরু বলেন, জুলাই সনদে সই হয়েছে। এখন নতুন করে ঐকমত্যের কী আছে সেটাই তো বোধগম্য নয়। শতভাগ ঐকমত্য তো হবে না। এখন সময় নির্বাচনের।
সোমবার ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এরপর থেকে দেশের কিছু এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি খবর সংবাদমাধ্যমগুলোতে এসেছে।
এ ব্যাপারে খসরু বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু এলাকায় প্রতিবাদ হয়েছে। এটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্বাভাবিক কিছু না। মানুষ গত ২০ বছরে নির্বাচন করতে পারেনি। তাও যারা করেছে মনকষ্ট থেকে করেছে, সেটাও পরে শান্ত হয়ে গেছে। প্রতিবাদ করাও রাজনীতির অংশ।
এদিকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এখনও ঘোষণা না হলেও এদিন খসরু মুখে ছিলো নানা প্রতিশ্রুতি।
তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১৮ মাসে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান, প্রত্যেক জেলায় স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনসহ থিয়েটার, ফিল্ম, মিউজিককে মেইনস্ট্রিম করবে বিএনপি। এসব মাধ্যমেও দেশের ইকোনমি বাড়াতে চাই আমরা। দেশের সব ধরনের মানুষকে ইকোনমির সঙ্গে সংযুক্ত করে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ করা হবে। এছাড়া দেশের ৪০ লাখ প্রতিবন্ধীকেও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা কথাও জানান খসরু।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাংলাদেশের মানুষ নিজের পকেট থেকে যা খরচ করে সেটা অনেক বেশি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ফ্রি করে দেবে।
শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের মানুষের মনোজগতে যে পরিবর্তন এসেছে, এটা ধারণ করতে না পারলে রাজনীতি করা কঠিন হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।






