ইরানি গণমাধ্যমের ‘ফাঁস হওয়া’ চুক্তি শর্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘সবই ভুয়া
ওভাল অফিসে একটি ঘোষণাপত্রে সই করার আগে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটন ডিসি। ১১ জুন ২০২৬ | ছবি: এএফপি
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রকাশিত তথ্যকে ‘ভুয়া খবর’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, আলোচনায় লিখিতভাবে যেসব শর্তে সম্মতি হয়েছে, তার সঙ্গে এসব তথ্যের কোনো মিল নেই।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘লিখিতভাবে যেসব শর্তে সম্মতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কোনো সম্পর্ক নেই।’ একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ‘চরম অসৎ’ বলেও মন্তব্য করেন এবং এমন অবস্থায় সৎ উদ্দেশ্যে কোনো চুক্তি করা কঠিন বলে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা সম্ভাব্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির সাতটি মূল শর্ত প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তেহরান বড় কোনো ছাড় দেয়নি।
ইরনার তথ্যমতে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিন পর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতেও ইরান তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের এত কাছাকাছি তারা আগে কখনো পৌঁছাননি। তবে শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগে গণমাধ্যমকে অনুমাননির্ভর খবর প্রকাশ না করার আহ্বান জানান তিনি।
ইরনার প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ ছাড় দেওয়া হবে। তবে এই দাবি নাকচ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
শুক্রবার ভ্যান্স বলেন, চুক্তির অধীনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই কেবল ইরানের তহবিল ছাড় দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা অগ্রসর হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও চূড়ান্ত চুক্তির পথ এখনো পুরোপুরি মসৃণ নয়।





