ads

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বৃহত্তর নাশকতা, উসকানি ও বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে।

সোমবার অগ্নিসংযোগের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ২২ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় নির্মাণশ্রমিক রোমান লাভরিনোভিচকে গ্রেপ্তার করা হয় হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে তদন্তকারীদের মতে, তিনি ছিলেন মূলত একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার ‘হাতিয়ার’।

তদন্তে জানা গেছে, ‘ইএল’  নামে পরিচিত এক রহস্যময় ব্যক্তি লাভরিনোভিচকে নির্দেশনা দিতেন। হামলার পর পাঠানো এক বার্তায় ওই ব্যক্তি লিখেছিলেন, “তুমি ব্রিটেনের একজন অত্যন্ত উচ্চপদস্থ ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়েছ। আমি টাকা পাঠাব, তোমাকে শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে।”

বিবিসির অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই ‘ইএল’ শুধু হামলার নির্দেশই দেননি, বরং আরও হামলার বিনিময়ে রুশ নাগরিকত্বের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করতেন।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ইএল’-এর প্রকৃত নাম ইয়েভগেনি লিউকশিন। ২৩ বছর বয়সী এই রুশ কূটনীতিক মস্কোর উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি একজন জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তার ছেলে এবং তথ্যযুদ্ধ ও প্রভাব বিস্তারের কৌশলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ নিরাপত্তা মহলের ধারণা, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে রাশিয়া-সমর্থিত নাশকতা ও প্রভাব বিস্তারের নানা অভিযোগের সঙ্গে এই ঘটনার মিল রয়েছে। স্টারমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও রাশিয়া অতীতে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে, তবে নতুন এই তদন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মস্কোর কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

 

আরও খবর