হরমুজ উত্তেজনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে আগামীকাল রোববার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)’ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। আলোচনায় যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি বাস্তবায়ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তিচুক্তির ভিত্তি তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, তবে এখনো কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরবর্তী সময়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার সামনে নতুন অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত ‘প্রথম পদক্ষেপ’ মাত্র। তাদের দাবি, আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, তিনি শিগগিরই সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ১৪ দফা চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে। তারা অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রোববারের এই বৈঠক সফল হলে দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।






