ads

স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ। কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। তীব্র গরমে পিচঢালা রাস্তা গলে যাওয়া, ট্রাম লাইন বেঁকে যাওয়া, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সাময়িক স্বস্তির পর জুলাই মাসেও আরও একটি শক্তিশালী তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে।

রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অস্বাভাবিক গরমে সড়ক, রেলপথ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে বাড়ছে তাপজনিত অসুস্থ রোগীর সংখ্যা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তীব্র তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত ইউরোপজুড়ে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বদ্ধ গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারানো শিশু এবং তাপ থেকে বাঁচতে গিয়ে নদী বা জলাশয়ে ডুবে মারা যাওয়া তরুণও রয়েছেন।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণে মর্গ ও মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে চাপ বেড়েছে। দেশটিতে গত ১৮ জুন থেকে অন্তত ৭৪ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। ফরাসি আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক দিনের জন্য তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও জুলাই মাসে আরও একটি তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে।

পশ্চিম ইউরোপ থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইতোমধ্যে পূর্ব ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়েছে। জার্মানিতে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে, চেক প্রজাতন্ত্রে ৪০ ডিগ্রি স্পর্শ করেছে। সুইজারল্যান্ডের বাসেলে রেকর্ড ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ডেনমার্কে ১৮৭৪ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণ দিন এবং যুক্তরাজ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস রেকর্ড করা হয়েছে। স্লোভাকিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি এবং হাঙ্গেরির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসম্ভব বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি রেস্তোরাঁগুলোকে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবার পানি সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনেও তাপপ্রবাহ নতুন সংকট তৈরি করেছে। ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পূর্বাভাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ইউরোপের চরম গরমের নানা দৃশ্য উঠে এসেছে। কোথাও তীব্র রোদে প্যানে কয়েক মিনিটেই ডিম ও বেকন রান্না হয়ে যাচ্ছে, কোথাও পিচঢালা রাস্তা গলে যাচ্ছে কিংবা উত্তাপে ট্রাম লাইন বেঁকে যাচ্ছে। নেদারল্যান্ডসে গাড়ির প্লাস্টিকের অংশ, শপিং কার্ট ও জুতার অংশ গলে যাওয়ার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে।

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে তীব্র গরম থেকে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পুলিশ ওয়াটার ক্যানন দিয়ে রাস্তায় পানি ছিটিয়েছে। সেই পানিতে ভিজে অনেকে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও নগর অবকাঠামোকে আরও প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

আরও খবর