বিজয় সরকারকে ফেলতে ‘ঘুষের নীলনকশা’? তামিলনাড়ুতে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন
ভারতের তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী থালাপাতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার কথিত একটি ষড়যন্ত্রকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে পদত্যাগে প্ররোচিত করার পরিকল্পনা এবং বিপুল অঙ্কের ঘুষের প্রস্তাবের অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা।
রাজ্য গোয়েন্দাদের দাবি, একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে টিভিকে (তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম) দলের বিধায়কদের দলত্যাগে উৎসাহিত করে সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন বিধায়ককে কোটি কোটি রুপি ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় টিভিকে বিধায়ক এন. ইলাইয়ারাজার অভিযোগের ভিত্তিতে। গত ২৯ জুন তিনি চেন্নাই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি তাকে তামিলনাড়ু বিধানসভার স্পিকার ও টিভিকে নেতা জেসিডি প্রভাকরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সমর্থনের বিনিময়ে ৩৫ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি প্রকাশ না করতে তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগের তদন্তে প্রথমে চেন্নাই থেকে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কারুর এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, এ ঘটনায় সাবেক ক্ষমতাসীন দল ডিএমকের প্রভাবশালী নেতা সেন্থিল বালাজির ঘনিষ্ঠদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে তামিলনাড়ু সরকারের মন্ত্রী সিটি নির্মল কুমার অভিযোগ করেছেন, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে নেতারা একযোগে বিজয় সরকারের পতনের চেষ্টা করছেন। তার দাবি, টিভিকের একাধিক বিধায়ককে ১০ কোটি থেকে ৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কুমার বলেন, সরকারকে অনৈতিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে ডিএমকে মুখপাত্র এ. সারাভানন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, টিভিকে সরকার জনগণের মধ্যে একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের কাছে যদি প্রকৃত প্রমাণ থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব না এনে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার পরিকল্পনার মাধ্যমে ফ্লোর ক্রসিং-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর একযোগে ১৫ জন বিধায়ক পদত্যাগ করলে জোট সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হতো।
গত নির্বাচনে থালাপাতি বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পেয়ে কয়েকটি ছোট দলের সমর্থনে ২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠন করে। প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও জোটের সমর্থনে প্রথমবারের মতো রাজ্যের ক্ষমতায় আসে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল।
চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপাতি বিজয় দুই বছর আগে অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। প্রথম নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের ডিএমকে–এআইএডিএমকে কেন্দ্রিক ক্ষমতার পালাবদলের ধারায় পরিবর্তন আনেন।
তবে সাম্প্রতিক এই অভিযোগকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






